বিদ্যমান মুক্তবাণিজ্য চুক্তি পরিমার্জন ও তাতে স্বাক্ষর করেছে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ান। উভয় পক্ষ গতকাল জানিয়েছে, চুক্তির এ ধাপে ডিজিটাল ও সবুজ অর্থনীতিসহ নতুন শিল্প খাতগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খবর রয়টার্স।
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে আসিয়ান-চীন মুক্তবাণিজ্য চুক্তির ‘৩.০ সংস্করণ’ স্বাক্ষর হয়। এর আগে সম্মেলন চলাকালে রোববার চলমান এশিয়া সফরের প্রথম যাত্রা বিরতির স্থান হিসেবে মালয়েশিয়ায় উপস্থিত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতি চীনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ১১ সদস্যবিশিষ্ট আসিয়ান ব্লক। গত বছর তাদের লেনদেনের আকার ছিল ৭৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার।
আসিয়ান অঞ্চলের সম্মিলিত জিডিপির আকার ৩ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলার। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত আমদানি শুল্কের প্রভাব মোকাবেলায় বেইজিং এখন অঞ্চলটিতে বাণিজ্য আরো জোরদার করতে চায়। গতকাল চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের উদারীকরণ এবং প্রক্রিয়া আরো গতিশীল করতে হবে। শিল্প খাতে আরো শক্তিশালী সংহতি ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতা প্রয়োজন।’
অবশ্য সমালোচকরা বলছেন, উন্মুক্ত অর্থনীতির পক্ষে নিজেকে উপস্থাপন করলেও দুষ্প্রাপ্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রফতানিতে ঠিকই বিধিনিষেধ বাড়াচ্ছে চীন।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য আরো সংহত করার পরামর্শ দেয়।
২০২২ সালের নভেম্বরে চুক্তির নতুন ধাপ নিয়ে আলোচনা শুরু করে চীন ও আসিয়ান জোট। চলতি বছরের মে মাসে তা শেষ হয়। প্রথম মুক্তবাণিজ্য চুক্তিটি কার্যকর হয়েছিল ২০১০ সালে।
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং বলেন, ‘পরিমার্জিত এ চুক্তি বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা আরো কমাবে। সরবরাহ চেইন শক্তিশালী ও নতুন খাতে প্রবৃদ্ধির সুযোগ উন্মুক্ত করবে।’
চীন আগেই বলেছিল, এবারের চুক্তি কৃষি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও ওষুধ শিল্পের মতো বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করবে। চীন ও আসিয়ান উভয়ই রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপের (আরসিইপি) সদস্য। এটি বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্য ব্লক এবং বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ও জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ ধারণ করে। পাঁচ বছর পর গত সোমবার কুয়ালালামপুরে আরসিইপি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, আসিয়ান-চীন চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিরোধিতায় কিছুটা সহায়ক। কিন্তু সদস্যদের স্বার্থের সংঘাতের কারণে এর বিধান অন্যান্য আঞ্চলিক চুক্তির মতো শক্তিশালী নয়।
আঞ্চলিক বাণিজ্য সহযোগিতার পারস্পরিক ঐকমত্য সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে এ অঞ্চলের দেশগুলোর বিবাদ বাড়ছে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মারকোস জুনিয়র গত সোমবার দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। এ জলসীমায় চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষ ঘটেছে।
চীনের সরকারি মানচিত্রে প্রায় পুরো দক্ষিণ চীন সাগরকে নিজেদের দাবি করে। ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামও সেখানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দাবি করে।